বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
গাজীপুর জেলা আরজেএফ’র নৌ-ভ্রমন সম্পন্ন প্রথম দেখা : সানজিদা চাঁদনী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে : এনামুল হক শামীম শরীয়তপুর জেলা মটর চালক লীগের মতবিনিময় সভা শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামের পিতা’র দাফন সম্পন্ন শরীয়তপুরে বঙ্গবন্ধু সৈনিক সংসদের মতবিনিময় সভা শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামের পিতা’র ইন্তেকাল: শোক প্রকাশ নলতা কেন্দ্রীয় অাহছানিয়া মিশনের সাধারন সস্পাদকের সাথে অারজেএফ’র মতবিনিময় সাতক্ষীরার পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মীর জাহাঙ্গীর’কে সংবর্ধনা কালিগঞ্জ উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানের সাথে আরজেএফ’র মতবিনিময়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজীবাড়ির বাসভবনে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার আহসান হাবিব লিংকন, স্থানীয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহমদসহ তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা এতে অংশ নেন।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়ামের সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতান আলম মল্লিকের সভাপতিত্বে অলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভাসানী পরিষদের নেতা মো. আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। হাফেজ ক্বারী মো. রফিকুল ইসলাম মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এছাড়াও টাঙ্গাইল জেলা কমিটি টাঙ্গাইলস্থ প্যারাডাইস পাড়া হলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আলোচনা সভা, খতমে কোরান, দোয়া, মিলাদ ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণে ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, এডভোকেট সুলতান আলম মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কাজি জাফর আহমদ সম্পর্কে উক্তরূপ মন্তব্য করা হয়।
সভায় তার ঘটনা বহুল জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার আহসান হাবিব লিংকন, গণ দলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, মাওলানা রুহুল আমিন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোঃ আখতার হোসেন, জাতীয় পার্রি যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম, প্রগশ এর সভাপতি মেহেদী হাসান তালুকদার তপন। সভায় মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ ক্বারী মোঃ রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, আমরা আজ এক চরমক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী কার্যকলাপ দেশ এবং দেশের মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শাসকগোষ্ঠি দেশে পুনরায় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত। এমনি অবস্থায় দেশকে বাঁচানোর জন্য জাতীয় ঐক্যের বড় প্রয়োজন। এই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারতেন তিনি হলেন কাজি জাফর আহমদ। দেশের ক্রান্তিকালে আমরা তার অভাব খুব বেশী অনুভব করছি।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি ছিলেন এক অনন্য সাধারণ রাজনৈতিক। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে কাজী জাফর আহমেদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। কাজী জাফর আহমদ ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই অপরাধে তৎকালীন সামরিক সরকার তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছিলেন। তারা আরও বলেন কাজী জাফর আহমদ ছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তার হাত ধরেই আমাদের অনেকের রাজনীতিতে উত্থান হয়েছে।
সভাপতির বক্তৃতায় এডভোকেট সুলতান আলম মল্লিক বলেন, কাজী জাফর আহমদ ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর একনিষ্ঠ অনুসারী। তার অনুপ্রেরণাতেই ভাসানী অনুসারী পরিষদের জন্ম। তিনি কাজী জাফর আহমদের রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ ৬০ বছরের এক বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্রময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
১৯৭২-১৯৭৪ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তখন ছিলেন ন্যাপের সভাপতি। এরপর ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড পিপলস্ পার্টির (ইউপিপি) প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে চেয়ারম্যান হিসেবে সক্রিয় ভাবে পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব ও জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রী হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৯০ সালে তিনি জাতীয় পার্টির সরকারে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বন্দর-জাহাজ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক উপদেষ্টা, ১৯৮৯-১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিও (একাংশ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 Lalsabujnews24.Com
Desing & Developed BY Kazi Jahir Uddin Titas::01713478536