মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২০, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
শরীয়তপুরে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক মন্ত্রী টি.এম গিয়াসউদ্দিনের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল উপমন্ত্রী শামীমের নির্দেশে সখিপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্ধোধন করলেন হুমায়ুন কবির মোল্যা শরীয়তপুর পৌরসভার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা নাহিম রাজ্জাকের নির্দেশে ভেদরগঞ্জের ছয়গাঁও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব টি.এম গিয়াস উদ্দিন আহমেদের ইন্তেকাল তানিয়া ইসলামের গল্প “রুপান্তর” দেশীয় মাছের বংশ ও স্বাদ রক্ষা: কোভিড-১৯ পরবর্তী পুষ্টিপূরন -সাইফুল ইসলাম চাঁদপুরে যুবলীগের ৪ নেতা বহিস্কার: কমিটি বিলুপ্ত করোনা মোকাবেলায় কাজ করছেন ইউএনও দম্পতি মাহবুর-তাসলিমা যুবলীগ চেয়ারম্যানের দাদী ও শশুরের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া
“চিত্র যখন বিচিত্র” : নাহিদ সুলতানা যুথী

“চিত্র যখন বিচিত্র” : নাহিদ সুলতানা যুথী

“চিত্র যখন বিচিত্র” : নাহিদ সুলতানা যুথী

আমরা কখনো ভাবি নাই আমরা এতটা দিন ঘরে থাকবো, অথবা থাকতে হতে পারে। পেশাগত কাজে শেষ যেদিন কোর্টে গিয়েছিলাম সেদিনের তারিখ ছিল মার্চের ২০। বাসায় এসে ভাবলাম, নিজের কারণে বাড়ির অন্যদেরকে আতংকে রাখা যাবে না। যেই ভাবা সেই কাজ। আমি আজ অবধি বাড়ির বাইরে যাই নাই। ইচ্ছা করলে যে ঘরে থাকা যায় তার প্রমাণ আমি দিয়েছি। একটি দিনের জন্যও অস্থির হই নাই। কিন্তু আমি না হয় এভাবে আবদ্ধ থাকলাম, অন্যদের কি অবস্থা?

চাকুরীওয়ালাদের গল্প শুনলে মনে হয় সরকারের জন্য তাদের জীবন বাজী রেখে চলছে। কিন্তু যাদের বাড়ি ভাড়ার চিন্তা নাই তাদের মগজ পরিষ্কার। তাই পরিষ্কার মগজে চাটুকারিতা ভালই জমে। আইন কর্মকর্তা হিসেবে যারা ২০০৯ সাল এখন অবধি স্ত্রী, স্বামী, সন্তান, ভাই, বোনের পরিবারে নিয়ে সরকারের ঘাড়ে বসে আছেন তাদের ভাবখানা এমন যে সরকার তাদের বড় ভাই বোন। শুধু চাকরি বেতনে তাদের পোষায় না, জন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় অংকের টাকা হজম করে বিরোধিতা পর্যন্ত করে না, অর্থাৎ সরকারে পক্ষে তারা নাই। এযেন মগের মুল্লুক। কেউ তাদেরকে ভয়ে কিছু বলার সাহস পায় না। এমনও শোনা যায়, বিভিন্ন কোর্টে তারা নিজেরাই আইনজীবী নিয়োজিত করে রেখেছেন। নিজে উপস্থিত না থেকে নিয়োগকৃতদের দিয়ে মামলা পরিচালনা করছেন। অনেক সময় মামলা চলাকালীন সময়ে অভিনব পদ্ধতিতে বাইরে চলে যান। আচ্ছা, চলে গেলেই কি দায়িত্ব শেষ? দায়িত্বে অবহেলার দায় কি তার ঘাড়ে বর্তায় না? আইনজীবীরা কি বোকার স্বর্গে বসবাস করে? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমি যাদের কথা লিখছি তাদের নাম উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই। কারণ, সাধারণ আইনজীবীরা জানে এরা কারা। এই হয়েছে আমাদের আইনাঙ্গনের টাকার খেলা। সরকারের চাকুরী করে তারা নাকি কোটি কোটি টাকার বাড়ি বানিয়েছেন যা বাংলা সিনেমার নায়িকাদের বাড়ির আদলে গড়া। দাপটের সাথে পাজেরো গাড়ি হাঁকিয়ে চলে। উপঢৌকন দিয়ে নিজেদের পদ সুরক্ষা করে, চাঁদাবাজি তাদের জন্য নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার।

মনে পরে, কতজনের কাছে গিয়েছিলেন চাকরিটার জন্য। মনে আছে, চাকরিতে প্রমোশন দিচ্ছিল না আপনাদের অপকর্মের জন্য তখন কার কার কাছে ধর্না দিয়েছিলেন। চাঞ্চল্যকর আমিন হুদার মামলার সময়ে নাকি অভিযোগ ছিল তার (তাদের) নামে। মাফ সাফ চেয়ে ছিল বলে শোনা যায়। আসলে মাফিয়া ডনদের সাথে তাদের রবাবরই আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল এবং আছে।
আসলে শুরু করতে চেয়েছিলাম আইনজীবীদের নিয়ে, কিন্তু শুরু হয়ে গেল তোষামোদকারীদের নিয়ে। আমার লিখার উদ্দেশ্য হল, “ছাদে বসে কাজ করলে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে না, বা আমাদের মান সম্মান থাকেনা বা কম্পিউটারম্যান এর পাশে বসে মামলার কাজ করলে কি করোনা কমবে নাকি বেশি আক্রান্ত হবো কিছু একটা ভাবুন” এসব আমি দেখেছি একটি ভিডিওতে। অতীব দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, আমি যদি এইসব ভিডিও পাই তাহলে বাংলাদেশের আনাচে কানাচের মানুষের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি কোথায় যেতে বসেছে?

সরকারের সব ডিপার্টমেন্ট যদি স্বল্প পরিসরে চলতে পারে আমার মনে হয় আইন আদালতও সেভাবে চলতে পারে অথবা সব কটি কোর্ট ভার্চুয়াল থাকলে আমরা/আমাদের আইনজীবী ভাই বোনেরা সবাই মামলা করার সুযোগ পাবে, এবং আমাদের অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না শুনেছি কেউ কেউ নাকি চাঁদা উঠিয়ে টাকা বিলি বণ্টন করেছে। আসলে বিলি বণ্টনের নামে চাঁদাবাজি, বিলি বণ্টন যদি করতেই হয় এবং ত্রাণ যদি দিতেই হয় তাইলে নিজের/নিজেদের কিছু নাই? প্রশ্ন থেকেই যায়। তাদের এসব স্বভাব মরলেও যাবে না। পিতা মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে চাঁদাবাজি নিয়ে জন্ম হয়েছে। কোন কোন AAG নাকি বেতন পাচ্ছে না। তাদেরও কান্নাকাটি করতে দেখেছি। প্রশ্ন হচ্ছে, কেমনভাবে চলছে আইনাঙ্গন? AAG যদি থাকতে পারে, তাহলে বেতন কেন পাচ্ছে না? বোন সরকারের চাকরি করে আর কিছু নতুন আত্মীয় স্বজন এসেছে শোনা যায়। আরও শোনা যায় রাত অবধি কোর্টে বসে চলে অবৈধ লেনদেন। কোটি কোটি টাকা দিয়ে বিদেশে ডলার খরচ করে ছেলে মেয়ে পড়ার টাকা কিভাবে আসে? বেতনের টাকা? চেষ্টা করলেই দেখতে পাবেন দুর্নীতির কোন পর্যায়ে আছি আমরা। আমার বিশ্বাস এভাবে চলবে না, চোরের দশ দিন সাধুর কিন্তু এক দিনই যথেষ্ট।

লেখা: এডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথীর ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Lalsabujnews24.Com
Desing & Developed BY Kazi Jahir Uddin Titas::01713478536