বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

জীবনের বাকী সময়টুকু জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই: বেগম মেহেরুন্নেসা হক

জীবনের বাকী সময়টুকু জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই: বেগম মেহেরুন্নেসা হক

জীবনের বাকী সময়টুকু জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই- বেগম মেহেরুন্নেসা হক
আমরা এ পৃথিবীতে সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়ে জন্মেছি। ভুল-ত্রুটি নিয়েই আমাদের জীবন চলা। ভালো-মন্দ মিলিয়েই আমাদের বেঁচে থাকা নয়নাভিরাম সুন্দর এ বসুন্ধরায়। যারা সচেতন, বিবেকবান, নৈতিকতাসম্পন্ন, চারিত্রিক সৌন্দর্যে বলিয়ান তাঁদের মনের একান্ত মিনতি “আমরা ভালো মানুষ হতে চাই”। যারা ভালো, আদর্শবান, শ্রেষ্ঠ মানুষ তাদের জীবনের সৌন্দর্যের আলোতেই আলোকিত হয় পরিবার, সমাজ, জাতি, রাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্ব। তারা সমাজ, জাতি, রাষ্ট্রের মণিমুক্তাতুল্য অমূল্য রতœ, যারা হবে সকলের জন্য অনুকরণীয়, অনুসরণীয়, মডেল বা আদর্শ। এমনি একজন সাদামনের মানুষ যিনি সারাজীবন মানুষের কল্যানে নিরবে নিভৃতে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২,৩ ও ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন্নেসা হক।
একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, মানবসমাজে একজন মানুষ যদি তার সততা, সদিচ্ছা ও সাহসিকতার যথাযথ ব্যবহার এবং প্রয়োগ করে সমাজ, দেশ ও জাতিকে কিছু উপহার দিতে চান তবে তা অনায়াসেই প্রদান করতে পারেন।
বেগম মেহেরুন্নেসা হক কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।
একজন সৎ, সাধারণ গর্বিত পিতার সন্তান পিতার আদর্শ ও শিক্ষা-দীক্ষায় দীক্ষিত এবং অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি গুনবতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, গুনবতী কলেজ থেকে এইচএসসি পরবর্তীতে ১৯৭৫ইং সনে ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তিনি একাধারে একজন মা, মানুষ গড়ার কারিগর খ্যাত একজন শিক্ষক, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি ১৯৭৫ইং সন থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মিরপুরের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ জান্নাত একাডেমী হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।
তার স্বামী মৃত একরামুল হক একজন প্রতিথযশা নাগরিক ছিলেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ছিলেন। পারিবারিক জীবনে বেগম মেহেরুন্নেসা ২ছেলে ২কন্যা সন্তানের জননী।
বড় ছেলে ড. গোলাম রাব্বানী স্ব-পরিবারে আমেরিকায় বসবাস করেন। তিনি একজন আইনজীবি ও সমাজকর্ম বিশ্লেষক। ছোট ছেলে গোলাম ফারুকী একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর জিএম হিসেবে কর্মরত। মেয়ে সৈয়দা ফাতেমা ইয়াসমিন শিক্ষকতা পেশায় আছেন, ছোট মেয়ে ঝুমা লন্ডনে সিটিজেনশীপ নিয়ে বসবাস করেন ।
বেগম মেহেরুন্নেসা হক বলেন, আমার জীবনে আর কোন চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। জীবনের বাকী সময়টুকু জনগনের কল্যানে কাজ করে যেতে চাই।
একজন মহিয়সী নারী বেগম মেহেরুন্নেসা হক। তার জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক লড়াই-সংগ্রাম বহু বাধা চড়াই-উৎরাই তিনি এই পর্যন্ত এসেছেন। এই পর্যন্ত বহু সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মাদরাসার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
যুব সমাজের উন্নয়নে ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশ নামক একটি এনজিও মাধ্যমে তিনি প্রতি বছর ইয়ুথদের নিয়ে একটি পার্লামেন্টের আয়োজন করেন। যেখানে আগামী দিনে এই দেশের যুব সমাজ কিভাবে আগামীদিনে একজন সৎ, যোগ্য ও আদর্শিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচালনা করবে।
আরও বহুও উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন নিজেকে।
কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে কি কি কাজ করেছেন? বাংলাদেশের আলো’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন্নেসা হক ঃ-
রাজধানী পল্লবীর ২, ৩, ও ৫নং ওয়ার্ডের জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে ২০০৩ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করেন বেগম মেহেরুন্নেসা হক। এই অঞ্চলের মানুষের আশা, ভরসা আর বিশ্বাসের একটি নাম বেগম মেহেরুন্নোসা হক। তিনি তার সততা, দক্ষতা আর ন্যায়পরায়তার কারনে স্বল্প সময়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। পর পর ৩বার তিনি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ও নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসিতাকে অবজ্ঞা করে জনসেবার মহৎ এক ব্রত এবং লক্ষ্য নিয়ে, সমাজ ও নগরবাসীর কল্যাণার্থে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি।
ভদ্র, শিক্ষিত, জনপ্রিয় এই মানুষটির আচার-আচরণ, কথাবার্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মানুষের দৃষ্টি ও হৃদয়কে জয় করেছিল।
বেগম মেহেরুন্নেসা হক ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর মিরপুর থানা মহিলা দলের সম্পাদিকা পদে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করেন।
দীর্ঘদিন মহিলা সম্পাদিকা দায়িত্ব পালনের পর ১৯৮৭সালে তিনি মিরপুর পল্লবী থানার ০৫নং ওয়ার্ডের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার সততা ও আদর্শিক পথচলার কারনে কেন্দ্র তাকে মূল্যায়ন করে ২০০৩ সালে পল্লবী থানা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক মনোনীত করেন। তৃনমৃল থেকে গড়া উঠা বেগম মেহেরুন্নেসা একজন কর্মীবান্ধব রাজনীতিবিদ। ২০০৪ সালে তাকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই এলাকার ২,৩ ও ৫নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর নির্মান কাজ শতভাগ সম্পন্ন করেছেন তিনি।
কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি ফুটপাথগুলোকে উদ্ধার করা, ফুটপাথের উন্নয়ন, বিজলী বাতির তথা স্ট্রিট বাতির ব্যাপক উন্নয়ন, রাস্তাঘাট পুনর্র্নিমাণ, সংস্কারকরণ, ড্রেনেজ অবস্থার উন্নয়নকরণ তথা বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধনের বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসেছেন।
কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কি প্রশ্ন করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো- আমি জনগণের নিরস্কুশ আস্থা ও ভালবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি রাস্তা ৬০/৩০/২০ফিট রাস্তা সম্প্রসারন করেছি। যাহা এতদাঞ্চলের প্রায় ৫লক্ষ মানুষের উন্নত যোগাযোগের দ্বার উন্মোচন হয়েছে।
মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে এলাকাবাসী তথা যুব সমাজকে রক্ষায় আপনি কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার এখানে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প আছে। যেখানে মাদকের অভয়ারণ্য ছিলো। আমরা মাদকের এই সকল স্পট ভেঙ্গে দিয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকের সাথে কারো সম্পৃক্ততা থাকলে তার বিষয়ে কোন ছাড় নাই। আমাদের মনিটরিং গ্রæপ এই বিষয়ে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা ব্যাপক কাজ করেছি। আমাদের পর্যাপ্ত টিম রয়েছে যারা সার্বক্ষনিক এই সকল বিষয়ে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
অত্র এলাকাকে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদির (সড়কবাতি, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি) নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমার ২, ৩ ও ৫ নং এই ৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় যারা সিভিল ডিভেন্স’র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাৎক্ষনিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যারা স্ব-ক্ষমতা রাখেন।
মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন বিকেলে মশার ওষুধ ছিটানো হয়। মশক নিধনের জন্য রোস্টার অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক বেশ কয়েকটি টিম রয়েছে। প্রত্যেকদিন মশার ঔষধ দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২,৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন প্রায় ৮ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ছয় লাখের বেশি। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩লাখ।
সবুজ পৃথিবী সম্পর্কে প্রশ্ন করলে কাউন্সিলর মেহেরুন্নেসা হক বলেন, আমরা বৃক্ষরোপন সম্পর্কে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপন ও সবুজ পৃথিবী রক্ষায় উদ্বৃদ্দ করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে চারা সংগ্রহ করে এই পর্যন্ত প্রায় বিশ হাজার গাছের চারা বিতরন করেছি। সবুজ পৃথিবী রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।
এছাড়াও ছাদে বাগান করার পরামর্শ দিয়েছি। ছাদে কিভাবে বাগান করতে হয়, কোথায় কি গাছ লাগাতে হবে সে বিষয়ে আমাদের একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম রয়েছে। অনেক বাড়ির ছাদে আমার পরিকল্পনামাফিক বাগান রয়েছে।
একজন সেবক হিসেবে রাস্তায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনের সময় একজন সাদামাটা সাধারণ মানুষের মতোই জনগণ ও পথচারীদের সঙ্গে বাক্যালাপ ও মতামত, আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তা বলেন। তিনি যে একজন সংস্কারক পরিকল্পনাবিদ, জনগণের সাধারণ সেবক হয়েছিলেন, এটা তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ কথাবার্তার মধ্য দিয়েই প্রস্ফুটিত হয়।
অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করে এই এলাকার জনগণের সেবার একটি বিভিন্ন বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
ভবিষ্যতে জনকল্যানে কি কি কাজ করার পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার এখানে প্রাইমারী স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ নাই। ভবিষ্যতে এগুলো করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। মহান আল্লাহ সহায় হলে অচিরেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Lalsabujnews24.Com
Desing & Developed BY Kazi Jahir Uddin Titas::01713478536