বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
জয়পুরহাটে কৃষক দলের সাংগঠনিক প্রতিনিধি সভা নড়িয়ার ডিঙ্গামানিকের আনোয়ার চেয়ারম্যান এলাকার উন্নয়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগ শক্তিশালী হলেই বাংলাদেশ শক্তিশালী হয় : এনামুল হক শামীম মুক্তিযোদ্ধা জেএইচ সিকদারের সাথে আনোয়ার চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বগুড়া জেলা আরজেএফ’র পরিচিত ও পরিচয়পত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল সম্পাদক বাবু নড়িয়ার রাজনগর বটতলা উন্নয়ন সংঘের ব্যতিক্রর্মী কার্যক্রমে আলোকিত হচ্ছে এলাকা ! শরীয়তপুর পৌরসভা জাতীয় পার্টির সম্মেলন: বাবুল সভাপতি ও শাওন সাধারন সম্পাদক নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা শরীয়তপুরে ঈদ এ মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে জশনে জুলুসে সুরেশ্বর দরবারের ভক্তদের অংশগ্রহণ
খোকার শেষ ইচ্ছা ছিল…

খোকার শেষ ইচ্ছা ছিল…

খোকার শেষ ইচ্ছা ছিল…

যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনের গ্যারিলা যোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর দুর্নীতি মামলায় তার সাজা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়। এরপরও বারবার দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন খোকা। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে দেশে ফেরেননি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও একাধিকবার তিনি দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ভর্তি হওয়ার আগেও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান টুকুর সঙ্গে ফোন করে দেশে আসার আকুতির কথা জানিয়েছিলেন খোকা।

সেটি স্মরণ করে গতকাল রোববার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোকার জন্য দোয়া মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ যখন আমরা স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করছি, তখন সাদেক হোসেন খোকাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। আমি কয়েকবার তার সঙ্গে নিউইয়র্কে দেখা করেছি। প্রতিবারই তিনি আমাকে বলেছেন, যদি অসুস্থ না হতাম, তা হলে আমি দেশে গিয়ে জেলে যেতাম, মানুষের সঙ্গে থাকতাম।’

তিনি আরও বলেন, সাদেক হোসেন খোকা আমাদের ও তার বন্ধুদের বলেছেন যে, ‘দেশের মাটিতেই যেন আমার কবর হয়’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোববার সকালে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে আমাকে ফোন করে বলে, তার বাবার ইচ্ছাটা সে পূরণ করতে চায়। তিনি যেন দেশে ফিরতে পারেন তার উদ্যোগ নিতে আমরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, তিনি যেন সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।’

এদিকে হাসপাতালে যাওয়ার আগে সাদেক হোসেন খোকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের মাটিতে বিদায় হবে কিনা আল্লাহ জানেন। আমার জন্য দোয়া করো।’

সাদেক হোসেন খোকার অবস্থা সংকটাপন্ন শুনে ভেঙে পড়েন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার সুস্থতা কামনায় একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লেখেন। সেটি নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেন মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সুস্থ হয়ে ফিরে এসো খোকা, ফিরো এসো। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।’

মির্জা আব্বাসের শেষ ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। ‘অসুস্থ না হতাম, তা হলে দেশে গিয়ে জেলে যেতাম’- খোকার এমন ইচ্ছাও পূরণ হলো না। সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন এ রাজনীতিক।

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে সপরিবারে নিউইয়র্ক যান সাদেক হোসেন খোকা। তারপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন বিএনপির এ নেতা।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

যেভাবে উত্থান খোকার

অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা মারা গেছেন। নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক এই রাজনীতিবিদের বর্ণিল জীবন সম্পর্কে।

>> সাদেক হোসেন খোকা ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

>> বামপন্থী রাজনীতি ছেড়ে আশির দশকে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন।

>> ১৯৯০ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হলেও তা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এতে খোকা পুরান ঢাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন।

>> ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন।

>> ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন।

>> ২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী হন। ওই সময় পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে দলকে শক্তিশালী করার পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

>> বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল কঠোর আন্দোলন শুরু করলে ঢাকায় বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় খোকাকে ১৯৯৬ সালে মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়।

>> ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। পাশাপাশি খোকাকে সভাপতি ও আবদুস সালামকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

>> ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলে যে সংস্কারের দাবি উঠেছিল, তার প্রতি সাদেক হোসেন খোকার সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

>> ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি।

>> ২০১৪ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 Lalsabujnews24.Com
Desing & Developed BY Kazi Jahir Uddin Titas::01713478536